‘‌ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদেরকে যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এ সম্মাননা দেয়া হয়।

বাংলা সাহিত্যের প্রসার ও লেখকদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে প্রায় ১৫ বছর ধরে লেখক ও সাহিত্যিকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক ও দৈনিক সমকাল। প্রতিষ্ঠান দুটি এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছিল। এবার ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার একসঙ্গে প্রদান করে।

‘প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ’ শ্রেণীতে ২০২৪ সালের পুরস্কার পান আবুল আহসান চৌধুরী। তার রচিত ‘‌বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’ গ্রন্থের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। একই শ্রেণীতে ‘পালকের চিহ্নগুলো’ গ্রন্থের জন্য ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন নাসরীন জাহান।

‘কবিতা ও কথাসাহিত্য’ শ্রেণীতে ‘‌সময় বহিয়া গেল’ গ্রন্থের জন্য ২০২৪ সালের পুরস্কার পান আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং ‘‌মানচিত্র’ গ্রন্থের জন্য ২০২৫ সালের পুরস্কার পান শাহীন আখতার।

‘‌তরুণ সাহিত্যিক’ শ্রেণীতে ২০২৪ সালের জন্য বিজয়ী হন নিজাম বিশ্বাস। ‘‌জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ গ্রন্থের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ বিভাগে ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন মাহবুব ময়ূখ রিশাদ। তিনি ‘‌সায়ানাইড ফুল’ গ্রন্থের জন্য এ পুরস্কার পান।

এ তিন শ্রেণীতে ২০২৪ সালের জন্য ৪৬০টি এবং ২০২৫ সালের জন্য ৫১০টি বই জমা পড়েছিল। সাহিত্যিক বেগম আকতার কামাল, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কবি আবিদ আনোয়ার এবং প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের সমন্বয়ে পঠিত জুরি বোর্ড সেরা বইগুলো নির্বাচন করেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘‌শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারগুলোতে অনেক ধরনের বিবেচনা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক-সমকালের এ সাহিত্য পুরস্কার নির্দ্বিধায় দেয়া বলে সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়েই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করার মতো লোকজন হারিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে যারা বয়োজ্যেষ্ঠ আছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বিকশিত করতে হলে সরকারি-বেসরকারি আরো নানা উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকগুলো সাহিত্য পুরস্কার ছিল এবং আছে। দুঃখজনকভাবে আদমজী, ফিলিফ, অনন্যা ও লেখক শিবিরের মতো অনেক সাহিত্য পুরস্কার এখন আর নেই। সাম্প্রতিক সময়েও অনেক সাহিত্য পুরস্কার আর দেয়া হচ্ছে না। শিল্প ও সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে এসব জায়গায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।’

ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ব্যাংক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তবে মানুষ শুধু অর্থনীতি নিয়েই বেঁচে থাকে না। মানুষ বাঁচে আশা, স্মৃতি, সম্পর্ক, স্বপ্ন ও গল্প নিয়ে। তাই সমৃদ্ধ দেশে সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি কবি, লেখক, চিন্তক ও বুদ্ধিজীবী প্রয়োজন।’

সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘সমকাল বরাবরই দেশীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে এসেছে। আমরা মনে করি, ভালো সাংবাদিকতার চর্চায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখে। সমকাল সবসময় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেবে।’

পুরস্কার প্রাপ্তদেরকে ‘আজীবন সম্মাননা’ শ্রেণীতে ৫ লাখ টাকা, ‘প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ’ ও ‘কবিতা ও কথাসাহিত্য’ শ্রেণীতে ৩ লাখ টাকা এবং ‘তরুণ সাহিত্যিক’ শ্রেণীতে ২ লাখ টাকা এবং ক্রেস্ট ও সম্মননাপত্রও প্রদান করা হয়।