ঝালকাঠি জেলা শহরের প্রবেশদ্বার কৃষ্ণকাঠি এলাকায় ১৯৮৮ সালে স্থাপন করা আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস টার্মিনাল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও হয়নি সংস্কারকাজ। অযত্ন আর অবহেলায় টার্মিনাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট খানাখন্দে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে অবিরত গাড়ি চলাচলের কারণে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হয় যাত্রী ও চালকদের। এছাড়া বিশ্রামাগার না থাকায় যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পৌরসভার নির্মিত শৌচাগার বাস টার্মিনালের পাশে থাকলেও সামনে পরিবহন কাউন্টার থাকায় তা দেখা যায় না। তাই অধিকাংশ যাত্রীই প্রাকৃতিক কর্ম সারেন টার্মিনাল এলাকায়। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ঝালকাঠি বাস টার্মিনালটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে টার্মিনালের পরিবেশও। তাই দ্রুত বাস টার্মিনালটি সংস্কার করে সুষ্ঠু পরিবেশ আনার দাবি চালক ও যাত্রীদের।

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে এক একর জমিতে ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি স্থাপন করা হয়। এরপর এটিকে আধুনিকায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রতিদিন ঝালকাঠি থেকে আটটি রুটে ১১০টি বাস চলাচল করে। এছাড়া ঝালকাঠি থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরগুনা, পাথরঘাটাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে ঝালকাঠি হয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বাস মালিক সমিতির জরাজীর্ণ ভবনটি এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মালিক সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। এ অবস্থায় সার্বিক কার্যক্রম চালছে ওই ভবন থেকেই। গত বছর ভবনটির প্লাস্টার খসে মালিক সমিতির সহসভাপতি আহত হন। পাশেই শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের শৌচাগারটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই।

ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান জানান, টার্মিনালটি নির্মাণের পর থেকেই অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এর চারপাশে নেই কোনো বাউন্ডারি দেয়াল বা কাঁটাতারের সীমানা। ফলে প্রায় দিনই রাতে এখানে থাকা গাড়ি থেকে ডিজেল, গিয়ার অয়েল, টায়ার, অতিরিক্ত টায়ারের রিং চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। আমাদের শ্রমিকদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। দূরপাল্লার চালক শ্রমিকরা এ কারণে টার্মিনালে প্রবেশ করে না। পৌরসভার নির্মিত শৌচাগারটির সামনে পরিবহনের কাউন্টার করায় তা আড়ালে পড়ে গেছে। তাই এটি কেউই ব্যবহার করতে পারে না।

ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে একমাত্র অবহেলিত ঝালকাঠির বাস টার্মিনাল। আধুনিকতার বিন্দুমাত্র ছোঁয়া লাগেনি গত ৩২ বছরে। এখানে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। ১৯৮৮ সালে নির্মিত মালিক সমিতির অফিস ভবনটিও ব্যবহারের অযোগ্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আমাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। খানাখন্দে ভরা এ টার্মিনালে বর্ষার সময় পানি জমে থাকে। দূরপাল্লা পরিবহনের কোনো বাস এখানে আসে না। তাই মহাসড়ক থেকেই যাত্রী ওঠানামা করেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। পৌরসভাকে বছরে ১০ লাখ টাকা ইজারা টোল দিলেও পরিবহনের কাছ থেকে তা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। হাইওয়ে থেকে টার্মিনাল দূরে থাকায় তারা এখানে না এসে বাইরে থেকেই চলে যাচ্ছে। তাই আমরা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিকায়নের দাবি জানাচ্ছি।

টার্মিনাল আধুনিকায়নের বিষয়ে পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, অনেক আগেই টার্মিনালটি আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।