দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র চারদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, শনিবার রাত ১২টার পর থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। চালু হওয়া ইউনিটটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ শনিবার মধ্যরাত থেকেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, এক নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা মজুদ রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর ইউনিট মিলিয়ে ২৫০ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। তবে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুই নম্বর ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে এতদিন এক ও তিন নম্বর ইউনিট সচল ছিল, যেগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিন নম্বর ইউনিটেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়, ফলে শুধু এক নম্বর ইউনিট সচল ছিল।

পরবর্তীতে ওই ইউনিটের বয়লারে লিকেজ দেখা দিলে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে মেরামত শেষে গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে পুনরায় এক নম্বর ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে তিন নম্বর ইউনিটের মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই সেটিও চালু করা সম্ভব হবে।