আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনকে ভণ্ডুল করে এক-এগারোর মতো একটি অস্থিতিশীল সরকারের ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র, সংবিধানকে বাঁচাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে হবে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কোনো ভয় পাবেন না। আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে। সাহসের সঙ্গে দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।’
গতকাল বিকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট জিরো পয়েন্টে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক পথসভায় এমন বক্তব্যে রাখেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো বলেছিল, হাসিনা ও আওয়ামী লীগ পালাবারও পথ পাবে না। এখন তারা কোথায়? বিএনপিসহ ৩২ দল পালিয়ে গেছে। অলিগলিতেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে আসেনি বর্জন করে প্রতিরোধ করবে বলে। অবরোধ, হরতাল, চোরাগোপ্তা হামলা, পুলিশ-আনসার হত্যা করতে পারে তারা। রেলে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা এসবই তারা পারে, এরা সবাই ভুয়া...। বিএনপি বলে তাদের হাজার হাজার লোক কারাগারে। তারা পুলিশ মারে, আনসার হত্যা করে, গাড়িতে আগুন দেয়, ককটেল, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। তারা জেলে যাবে না কারা জেলে যাবে।’
বিএনপির সব কর্মকাণ্ডকে ফৌজদারি অপরাধ বলে আখ্যা দেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আচরণবিধি না মানলে এবং ফাউল করলে খবর আছে। ধরা খেলে কারো জন্য তদবির করব না। আমরা নির্বাচন আচরণবিধির ওপর শ্রদ্ধাশীল। আজকে দেখুন, আমার গাড়িতেও জাতীয় পতাকা নেই। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ ও সিলেটে গিয়েছিলেন, জাতীয় পতাকা ছিল না, কোনো প্রটোকল ছিল না। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎও করা হয়নি। সিলেট বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন না।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ওদের দণ্ডিত নেতা তারেক বলে, ট্যাক্স দেবে না, সরকারকে ট্যাক্স দিতে নিষেধ করছে জনগণকে। এ নেতার কথা শুনে এখন ঘোড়াও হাসে। হাওয়া ভবনের এ অর্থচোরা তারেক কীভাবে জনগণকে বলে ট্যাক্স না দিতে। টেমস নদীর পাড়ে বসে লম্বা লম্বা কথা না বলে সাহস থাকে তো দেশের রাজপথে আসেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী এমপি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীরসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা।









