গতকাল দুপুর পর্যন্ত ১৩ দিনে মোট ৪২৩ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল একদিনেই বাতিল হয়েছে ২৮টি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ।

তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট বাতিল শুরু হয়। পরিস্থিতি এখনো বলবৎ রয়েছে।

তিনি আরো জানান, গতকাল বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে মোট ৪২৩ ফ্লাইট।

এদিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার আরো পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বুধবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ বিভাগ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা দুটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট এবং একই রুটের দুটি ডিপার্চার ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি ডিপার্চার ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

তবে একই দিনে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা আটটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট এবং পাঁচটি ডিপার্চার ফ্লাইট বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন হচ্ছে। বুধবারে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত ১২ দিনে মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আশা করা যায় দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’