সরকার এই দেশকে পুরোপুরি বিভক্ত করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে এ দেশের মানুষ যে সংবিধান রচনা করেছিলেন সেটাকে বারবার কাটাছেঁড়া করে অকার্যকর একটা সংবিধান করেছে তারা। ৭২’র সংবিধানের মূল ভিত্তি নষ্ট করে তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে সংবিধানকে ধ্বংস করেছে। শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে সিলেট মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ধ্বংস করেছে ও শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। দেশে আজ ভয়াবহ নির্যাতন নিপীড়ন চলছে। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। গত আগস্ট থেকে ১৭ জন নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন। জীবিত সব নেতাকর্মীরাই মামলার আসামি।

১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বদলে একদলীয় বাকশাল কায়েমের কথা তুলে ধরে এর তীব্র সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে যে মৌলিক বিষয় ছিল, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, একটা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, সেটাকে ১৯৭৫ সালে তারা ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল গঠন করেছিল। যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে ক্ষমতায় আসার তখনই তারা সংবিধানকে ধ্বংস করেছে, তখনই তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হাত দিয়েছে, সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করেছে, কণ্ঠরোধ করেছে সংবাদপত্রের।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে'? তখন নেতা-কর্মীরা ‘না’ বলে আওয়াজ দেন। এরপর মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একটা ভয়ের রাজত্ব, ত্রাসের রাজত্ব তারা তৈরি করেছে। যে সরকার আমাদের সমস্ত অর্জন কেড়ে নিয়েছে, তাদের যে কোনো উপায়ে পরাজিত করতে হবে। তাদেরকে বিতাড়িত করতে হবে। দেশে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।

ধ্বংস হওয়া অর্থনীতি টেনে তোলা কঠিন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছেG এমনভাবে ধ্বংস করেছে যে এটাকে টেনে তোলা অত্যন্ত কঠিন। শুধু নিজেদের স্বার্থে, দুর্নীতির স্বার্থে আজ তারা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তারা নাকি অনেক উন্নয়ন করেছে। এই উন্নয়নটা কার জন্যে? এই উন্নয়ন গুটিকতক মানুষের জন্য। তারা পাতাল রেল করছে, মেট্রোরেল করেছে। কত টাকা খরচ হয়েছে? যা খরচ হওয়ার কথা তার চেয়ে তিনগুণ খরচ করেছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের কথা তুলে ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কত খারাপ হয়েছে cw প্রকাশ্যে দিনের বেলায় চড়-থাপ্পড় মেরে ১১ কোটি টাকা নিয়ে যায়G পরে আবার ওরাই খোঁজে পায়, তার মধ্যে আবার দুই কোটি টাকা পাওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা এমন খারাপ হয়েছে, আজকে আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নাই।

আদানির বিদ্যুতে লোকসান দেড় লাখ কোটি টাকা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ভারতীয় আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ কেনার যে চুক্তি, তার সমালোচনা করে এই হিসাব দেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, অন্য দেশের চেয়ে দ্বিগুণ দামে আমাদের কয়লা কিনতে হচ্ছে। চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম দাঁড়াবে প্রায় ১৬ টাকার মতো, যেটা এখন ৮ টাকার মতো। বিদ্যুতের দাম গত দুই মাসে তিনবার বাড়ানোর সমালোচনা করেন ফখরুল।

সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকির সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম এ জাহিদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে সিলেট মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯১৭ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরের নেতৃত্বে আসতে সম্মেলনে তিন পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।