গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ করা না করার বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে বিপাকে পড়ে যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছরের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন (ইউজিসি) বলছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বিগত সময়ে গুচ্ছে অংশ নিয়েছে তাদের এ প্রক্রিয়া থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম মনে করেন, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষকদের ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র জানায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেণীর শিক্ষক বরাবরই গুচ্ছের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারা গুচ্ছের সঙ্গে আর না থাকার জন্য কর্তৃপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। শিক্ষক সমিতির নির্বাহী কমিটির সভায় গুচ্ছে না থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। তাদের অব্যাহত চাপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা আহ্বান করে। ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ১২৫তম একাডেমিক কাউন্সিলে ইবি গুচ্ছে থাকবে না, এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ অবস্থান ২০ মার্চ (সোমবার) ইউজিসির সাধারণ সভায় ইবি উপাচার্য তুলে ধরেন।

ওইদিনই ইউজিসি সাফ জানিয়ে দেয়, হঠাৎ করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করতে গেলে বিপাকে পড়বে পুরো সিস্টেম। 

পরে সভা শেষে ইউজিসি সদস্য ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ইউনিক পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২২ বিশ্ববিদ্যালয় এবারো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে।’

তিনি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংশ্লিষ্টদের অল্প সময়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ক্লাস শুরু করার আহ্বান জানান। এছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করে দেশবাসীকে চমৎকার একটি ভর্তি পরীক্ষা উপহার দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ইবিকে গুচ্ছে থাকতে হবে ইউজিসির এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি ইউজিসির বক্তব্য গণমাধ্যমে দেখেছেন। উপাচার্য মহোদয় ঢাকায় রয়েছেন। তিনি ইউজিসির সভার বিষয়টি অবগত করালে তারপর শিক্ষকরা তার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য বলেন, ‘‌গুচ্ছ নিয়ে ইউজিসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, ‘‌ইউজিসির সাধারণ সভায় ইবিকে আহ্বান জানানো হলেও ইউজিসি থেকে আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমি শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করব।’ 

তিনি জানান, ইউজিসি বা সরকার থেকে যে চিঠি আসবে, সেটাই শিক্ষকদের জানাবেন তিনি। 

এদিকে গুচ্ছে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক। দ্রুত এ নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানান তারা।