গতকাল বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল দেন।

মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত নারী কর্মীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন গত ৩০ জুন রিটটি করেন। তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

শুনানি শেষে আবেদনকারী আইনজীবী মনির উদ্দিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম কেন নিয়োগ দেয়া হবে না। তাদের এ বিষয়ে রুলের জবাব দিতে হবে।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বলেন, ‘দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মর্গে নারী ডোম নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।’ 

রিট আবেদনে বলা হয়, দেশের যেসব হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়, সেসব হাসপাতালে একজন করে নারী ডোম নিয়োগের বিষয়ে গত ১৩ মে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর মরদেহের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর মরদেহে নারী কর্মী নিয়োজিত থাকলে মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।

এতে আরো বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে বিবেচনায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রমেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।