ঢাকায় মেট্রোরেলের আরো দুটি লাইনের আটটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইন-১-এর ছয়টি ও লাইন-৫-এর দুটি ক্রয় প্রস্তাব। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। গতকাল অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত আটটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তাতে অনুমোদন দেয় কমিটি। এর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় পূর্ত কার্যক্রম ও ভবন নির্মাণে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের জয়েন্ট ভেঞ্চার এ কাজ পেয়েছে।
লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার জয়েন্ট ভেঞ্চার।
লাইন-১-এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপনসংক্রান্ত ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর জয়েন্ট ভেঞ্চার এ কাজ করবে।
এ লাইনের রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুনবাজার স্টেশন পর্যন্ত মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণ হবে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকায়। কাজটি পেয়েছে জাপানের টোকিউ ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জয়েন্ট ভেঞ্চার।
সিপি-০৭ প্যাকেজের অধীনে ট্রানজিশন থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক শূন্য শূন্য ৭ কিলোমিটার মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। সিআরইসি-ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার এ কাজ পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।
মেট্রোরেলের লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্তকাজ ও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের জয়েন্ট ভেঞ্চার এ কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
একই রুটে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ও নতুনবাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত উড়ালপথে মেইন লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। চীনের সিআরইসি, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এমবিইএলের জয়েন্ট ভেঞ্চার এ কাজ পেয়েছে।
মেট্রোরেলের লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মাণ হচ্ছে। অন্যদিকে লাইন-৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে।









