দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে ইয়াবাসহ শাপলা বেগম (২৮) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দাউদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। আটক নারী থানায় যাওয়ার পর কাশতে থাকেন। জিজ্ঞাসা করা হলে, তার গলা ব্যথাও করছে বলে পুলিশকে জানান ওই নারী। করোনা সন্দেহে পুলিশি পাহারায় তাকে পাঠানো হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে। পরে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে। ফলাফল নেগেটিভ আসলে জানা যায়, তিনি আসলে মাদক মামলা থেকে জামিন সুবিধা পেতে কৌশল নিয়েছিলেন।
শাপলা বেগম বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার সুলতাপুর গ্রামের জাকিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বগুড়ার একতা ক্লিনিকের আয়া।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মেডিকেল থেকে শাপলা বেগমের নমুনা ফলাফল নেগেটিভ আসে।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মতিয়ার রহমান জানান, আজ শুক্রবার সকালে ওই শাপলা বেগমকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, তিনি আসলে জামিন সুবিধা পেতেই শাপলা বেগম গলাব্যথা উল্লেখ করে ইচ্ছাকৃতভাবে কাশি দিচ্ছিলেন। আজ জামিন না হওয়ায় শাপলা বেগমের জামিন পেতে ‘করোনা কৌশল’ ভেস্তে গেছে।
বিজিবি বলছে, গত ২৩ মার্চ রাতে ওই নারীকে আটক এবং থানায় সোপর্দ করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন।
বিরামপুরের দাউদপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার হেলাল উদ্দিন জানান, শাপলা বেগমকে গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১৪৫টি ইয়াবাসহ কাটলা সীমান্তে আটক করেছিল। ঘটনায় দাউদপুর ক্যাম্পের নায়েক খোরশেদ আলম বাদী হয়ে মামলা করে শাপলাকে বিরামপুর থানায় সোপর্দ করেছিলেন।
বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিথুন সরকার জানান, থানায় ওই নারী জ্বর ও গলা ব্যথার কথা উল্লেখ করে কাশতে থাকে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরমর্শক্রমে বিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।









