অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সভাপতি রেহমান সোবহান বলেছেন, বর্তমান (অন্তর্বর্তী) সরকারের মেয়াদ আর ছয় মাসের বেশি নেই। শুরু থেকে বিভিন্ন সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো কী কী সংস্কার করবে সেটা আমরা জানি না। আগামী কয়েকমাসে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো শনাক্ত করে গুরুত্বের ভিত্তিতে কিছু সংস্কার করা দরকার।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে 'বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ'র আনুষ্ঠানিক সূচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোন কোন সংস্কারের দিকে তাকাবো। কারণ, এখানে একাধিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। সবচেয়ে স্পষ্ট যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা হলো বর্তমান সরকারের চলমান সংস্কার। এটি কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয় বরং এ নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা চলছে। এমনকি একটি শঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে যে, যদি সংস্কার সম্পন্ন না হয়, তবে নির্বাচন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কিছু দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো কোন কোন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে সেটি পরিষ্কার নয়।
১৫৮টি সংস্কারের তালিকা কমিয়ে ৮২টিতে আনা হয়েছে জানিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, কী কী সংস্কার করা হবে তা আমরা জানি না। এই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য কারো কাছেই নেই। প্রশ্ন হলো—এখন কোন সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি? অধ্যাপক ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী ছয় মাসে কোন কোন সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে? ছয় মাস আগেই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেত বলেও অভিমত তার।
এদেশে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সংস্কারের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কেবল কাগজে লিখে আর রাজনৈতিক দলগুলো সই করে সমর্থন জানালে সেটি সংস্কার হয়ে যায় না। একটি সংস্কারের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাবনা থাকতে হয়, তা নির্বাহী আদেশ, অধ্যাদেশ বা আইন হিসেবে প্রণীত হতে হয় এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদসহ আরো অনেকে।










