ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। একটি নতুন সরকার আসার মধ্যেই এবারের নির্বাচন সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর দেশের জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে সরকার গঠন বা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন। অন্যদিকে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজন যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি নতুন সরকারের সামনেও অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ থাকার কথা উল্লেখ করেছে ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজে)।
গতকাল সোমবার আইসিজের ওয়েবসাইটে ‘গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখায় এমনটাই বলা হয়েছে। এতে নতুন সরকারের জন্য অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম 'আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতা'র মতো জটিল বিষয়। যদিও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ায় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিতে পারবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণ এবং এটি করতে রাষ্ট্র বা সরকারের সক্ষমতা আছে কিনা- প্রাথমিকভাবে তা প্রমাণ করাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়াও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক চাপ সামলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নেয়াটাওও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
নিবন্ধে ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিন বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বেশ কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট বাংলাদেশকে শুধু সাংবিধানিক কাঠামোতেই ফেরাবে না, বরং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সত্যিকার জনরায়ের ভিত্তিতে একটি সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।
থমাস কিন লিখেছেন, হাসিনার পতনের পর হিযবুত-তাহরিরের মতো উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এদের মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আছে। তার মতে, নির্বাচনের পরে নতুন সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার জটিল ইস্যুও মোকাবেলা করতে হবে, কারণ ইতিহাস ও শক্ত ভোট ভিত্তির কারণে আওয়ামী লীগকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দলের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন নেতৃত্বের অধীনে হলেও আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরতে দেয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আওয়ামী লীগের কোনোভাবে প্রত্যাবর্তনের শর্ত নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐক্যমত গড়ে উঠলে এ ইস্যু কেন্দ্র করে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।
তিনি মনে করেন, এটি করতে হলে আওয়ামী লীগকে আগে সহিংসতার জন্য অনুশোচনা করতে হবে, যা করতে শেখ হাসিনা এখনো অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। তবে এক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছাতে ভারত ও অন্য বিদেশী প্রভাবশালী সরকারগুলো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
তার মতে, দেশের তরুণদের আশা পূরণে ব্যর্থতার কারণে আগামী বছরগুলোতে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি আসতে পারে।










