দেশের শীর্ষ একটি গণমাধ্যমে কাজ করেন নাফিসা ও ইসরাত। রাজধানীসহ সারা দেশে কারফিউ জারি থাকার কারণে পাবলিক যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের কর্মস্থলে যেতে আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার আসার একমাত্র মাধ্যম ছিল রিকশা। ভাড়া অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে এটাই স্বস্তি যে অন্তত রিকশায় করে তারা কর্মস্থলে যেতে পেরেছেন।
গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি। আগারগাঁও, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীকে টহলরত অবস্থায় দেখা গেছে। রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি জরুরি কাজে যাদের বের হতে হচ্ছে তাদের একমাত্র অবলম্বন ছিল রিকশা। গতকাল প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে মূল সড়কগুলোয় চলাচল করার সুযোগ দেয়া হয়।
আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আসেন হাবিবুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার বাসা মগবাজার। জরুরি ভিত্তিতে আজ আমার ডাক্তার দেখানো লাগত। কারফিউ থাকায় পরিবহন বন্ধ ছিল। তাই এতদূর রিকশায় আসতে হয়েছে। এখানে আসতে দু-তিনবার রিকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে।’
অনেকের আবার ব্যক্তিগত গাড়ি থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ে বের হচ্ছেন না। সাদিয়া আরমান নামের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘আমার কর্মস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ। আমি সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়ি করে আসা-যাওয়া করি। তবে আজ গাড়ি বের করিনি। রিকশায় যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে অন্য দিনের তুলনায় সময় কিছুটা বেশি লাগলেও নিরাপদে যাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি।’
তবে কারফিউ জারিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। আল আমিন (৪০) নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘রাস্তাঘাটে মানুষজন নেই, সেনাবাহিনী মোতায়েন করায় অনেক জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু জায়গায় যেতে সেনাবাহিনী বাধা দিচ্ছে। যাত্রীও তেমন না থাকায় অন্য দিনের তুলনায় আয়-রোজগার কম।’
বরকত (২৫) নামের আরেক রিকশাচালক জানান, তার পরিবারে অনেকেই দিনমজুর। কারফিউর কারণে সবাই ঘরে বসে আছে। তবে তাকে রিকশা নিয়ে বের হতে হয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় ভাড়া কিছুটা বেশি আদায় করছেন তিনি।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। এ আন্দোলন রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও প্রভাব পড়েছে। আন্দোলন তীব্রতা পেয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।










