বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের চলমান কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চীন বিশ্বাস করে, এ দেশের জনগণ ও সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় পূর্ণভাবে সক্ষম। আমরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। সহিংসতায় প্রাণ ও সম্পদহানি হয়ে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের এ ধরনের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা রয়েছে।’

ইয়াও ওয়েন গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সদ্যসমাপ্ত চীন সফরের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি চীনের সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন, কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেশন এগিয়ে নেয়াসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ ও চট্টগ্রামে আরেকটি রোড-টানেল তৈরিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার বিষয় উত্থাপন করলে চীনের এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান চীনের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাংবাদিকদের জানান, কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশনের আওতায় চীন শিগগিরই ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড় করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে উন্নয়ন সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে কোন কোন খাতে সহায়তা দেয়া হবে, সে বিষয় ঠিক করতে উভয় পক্ষ কাজ করছে।’