পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা নয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গুণগত শিক্ষাদানের সুবিধার্থে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সুরক্ষার আওতায় আনতে নয়, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
যেসব পরিবারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু রয়েছে, তাদের অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেসব পিতা-মাতারা যাতে ঘরে বসে বা উপযোগী পরিবেশে আয়ের সুযোগ পান এবং কর্মক্ষম থাকতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে নিউরো- ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি) থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেয়া হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে এগারো কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানালে মন্ত্রী তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং তা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে মন্ত্রী উপস্থিত ৯২ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিকটে গিয়ে বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।









