ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকে এ বিক্ষোভ করেন তারা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। পরে তালা খুলে নেয়া হলেও অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন তারা। সন্ধ্যা ৬টায় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে সমস্যা সমাধানে সাতদিনের সময় নেয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।
শিক্ষার্থীরা জানান, ৫৪ বছর আগে ১৯৬৮ সালে বরিশাল মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সময় হাবিবুর রহমান, জামিলুর রহমান, মাইনুল হায়দার ও ডা. রাফি ইন্টার্ন হোস্টেল নামের চারটি ছাত্রাবাস ও মেয়েদের জন্য দুটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণ করা হয়। এরপর কোনো নতুন হল নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরনো এ ছয়টি হলের অবস্থা এখন নাজুক। এখানকার একটি হল (হাবিবুর রহমান) এরই মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাকি যেগুলো আছে তাতে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদের জামিলুর রহমান ২ নম্বর হলে এমন ঘটনা ঘটার পর হল ছেড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ আবাসনের দাবিতে তাদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষকরাও।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাক হাসান জানিয়েছেন, আবাসন সংকট থাকা এ কলেজে অধ্যয়নরতদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সব শিক্ষার্থী একযোগে এ কর্মসূচি পালন করছেন।
আরেক শিক্ষার্থী তাহাসিন জানান, হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এ হলের ছাত্রদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে কিন্তু হল নির্মাণ করা হয়নি। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না ঘটলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, স্বাস্থ্যসচিব ফোন করে হোস্টেল সংস্কারের কথা বলেছেন। আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করব। এছাড়া কলেজে নতুন দুটি হোস্টেল নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হবে।










