তৃতীয়বারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র নির্বাচিত হলেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। গতকাল রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ ফল ঘোষণা করা হয়।

২০০৮ সালে প্রথমবার ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য। রাজশাহীতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবার মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন লিটন।

নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর রশিদ আলম ফারুকী পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। যদিও ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাসিক নির্বাচন বর্জন করেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী। ইভিএমে অবশ্য রয়ে যায় হাতপাখা প্রতীক।

এছাড়া লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন ১০ হাজার ২৭২ ভোট এবং গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ার ১১ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়েছেন। ইভিএমে ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ এনে সরে যেতে চেয়েছিলেন লাঙল প্রতীকের প্রার্থীও। কিন্তু তাতে দলীয় চাপে শেষ পর্যন্ত রয়ে যেতে হয় তাকে। ভোট কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট দেননি জাকের পার্টির প্রার্থী। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। প্রথমবারের মতো পুরো সিটিতে ভোট হয়েছে ইভিএমে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ঘিরে ছিল পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা। ভোটের মাঠে ছিলেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ছিলেন ৩০০ র‍্যাব সদস্য ও ১২ প্লাটুন বিজিবি। ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচনে ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১১২ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে ৪৬ জন প্রার্থী ছিলেন। নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ জন, আর নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন।