সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলায় ১৪-১৫ ডিএস মাত্রার লবণাক্ত জমিতে বিনা-১০ জাতের ধান চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক। এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লবণসহিঞ্চু ধানের জাত।

বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট বিনা উদ্ভাবিত লবণসহিঞ্চু ও উচ্চফলনশীল এ জাতের ধান পরীক্ষামূলক শ্যামনগর উপজেলার ৩০০ কৃষক চাষ করে দারুণ সাফল্য দেখান তারা। বিনা-১০ জাতের ধানের উদ্ভাবক বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট বিনা ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জাল ইসলাম। গতকাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের সঙ্গে মাঠ দিবসে ধান কর্তনে অংশ নেন তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল এবং লবণসহিঞ্চু বিনা-১০-এর সম্প্রসারণে শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফজলুল হক, বিনা সাতক্ষীরা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল আকতার, সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন।

অনুষ্ঠানে বিনা-১০ জাতের ধান চাষে সাফল্যের কথা তুলে ধরেন আটুলিয়া গ্রামের চাষী ভক্ত রাম বিশ্বাস, কেশব চন্দ্র মণ্ডল ও কবিতা রানী মণ্ডল। তারা জানান, বিগত তিন দশকের মধ্যে এ প্রথম তারা ধান চাষ করে সফল হয়েছেন। জমি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিমাত্রার লবণের কারণে এ এলাকায় ধান বা অন্য কোনো ফসল ফলে না। শুধু লবণ পানির চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভর করে চলতে হয় তাদের। চলতি বোরো মৌসুমে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তারা প্রত্যেকে দুই থেকে তিন বিঘা পরিমাণ জমিতে বিনা জাতের ধান চাষ করেন। সরকারিভাবে দেয়া বীজে বীজতলা করে পরবর্তী সময়ে জমি চাষ ও চারা রোপণ করে তাদের বিঘাতে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গতকাল জমির ধান কর্তনের সময় তারা জানান, বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যাবে। এর আগে কখনো এমন ধানের উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তারা প্রত্যেকে খুবই খুশি এ জাতের ধান চাষ করে এবং আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে বিনা-১০ জাতের ধান চাষ করবেন বলে জানান।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিটিউট বিনা ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জাল ইসলাম বলেন, শ্যামনগর উপজেলার যেসব এলাকায় বিনা ১০ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে সেসব এলাকার জমির লবণাক্ততার পরিমাণ কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৫ ডিএস। কৃষকদের অভাবনীয় সাফল্য দেখে খুবই ভালো লাগছে। কেননা, এ ধানের জাত উদ্ভাবনের আগে বহুবার সাতক্ষীরার এ উপকূলীয় অঞ্চলে এসে মাটি ও পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। কৃষকদের মাঝে আশার আলো দেখতে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। গবেষণা সফল হয়েছে। আগামীতে এ অঞ্চলের ধানের উৎপাদন অনেক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।