সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন সময় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে তা ভেস্তে গেছে। তবে সম্প্রতি নগর ভবনের পেছনে লালদিঘীরপাড়ে প্রায় চার একর জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনে অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এতে ফুটপাত হকারমুক্ত হলেও কতদিন দখলমুক্ত রাখা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। অন্যদিকে পুনর্বাসিত হকাররাও তাদের ব্যবসা নিয়ে শঙ্কায়। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতের হকারদের আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে ফুটপাত হকারমুক্ত করতে নামে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগর ভবনের পেছনের দিকে লালদিঘীরপাড়ে প্রায় চার একর জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনের জন্য অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করে নগর কর্তৃপক্ষ। যেখানে আড়াই হাজার হকার একসঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন। অস্থায়ী মার্কেট তৈরির পর সেখানে হকারদের আসার আহ্বান জানিয়ে গত সোমবার দুপুর থেকে অভিযানে নামে সিসিক। এরপর থেকে আর সড়কে দেখা মিলছে না হকারদের।

লালদিঘীরপাড় অস্থায়ী মার্কেটে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তিন শতাধিক হকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মাছ, সবজি থেকে শুরু করে জামাকাপড়, জুতাসহ সব ধরনের ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের কেউ নতুন জায়গায় ব্যবসা জমে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী। আবার কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন। সবাই বলছেন, ফুটপাতে যে বেচাকেনা হয় তার ৪ ভাগের ১ ভাগও এখানে করতে পারছেন না।

আব্দুর রহিম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০১ সাল থেকে তিনি নগরের ফুটপাতে শিশুদের কাপড়ের ব্যবসা করে আসছেন। নতুন জায়গায় ব্যবসা কেমন চলছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাস্তার ব্যবসা এখানে কখনো হবে? রাস্তায় চলতে চলতে মানুষের একটা জিনিস ভালো লেগেছে, আর কিনে নিয়েছে। এখানে তো প্রয়োজন হলেই কেবল আসবে। না হলে আসবে না।’

বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২২০ টাকা বিক্রি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত দিনে ৪-৫ হাজার টাকার বিক্রি হয় আমার। এখন একেবারেই নেই বললেই চলে। সব হকার এখানে চলে এলে অবশ্য ব্যবসা হবে।’

কিন ব্রিজের সামনে ব্যবসা করতেন বাবলু রায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর থেকে কিনব্রিজের মুখে ব্যবসা করছি। এখানে কী হবে বুঝছি না। তবে আশা করি সব হকার যদি নিয়মিত বসেন, তবে ব্যবসা হবে। রাস্তায় ৩০০ টাকা বললে ক্রেতারা ৬০ টাকা বলে। এখানে একটু সম্মান দিয়ে ১৫০ টাকা দাম বলে।’

ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় খুশি সাধারণ নাগরিকরা। সিলেট নগরের আম্বরখানা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেট পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সব ফুটপাতই হকারমুক্ত। হকারমুক্ত হওয়ায় নগরের অসহনীয় যানজটের তীব্রতাও নেই। তবে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাগুলো ফুটপাত দখল করে বসে আছে।

কাউসার চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘হকারমুক্ত ফুটপাতের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলো। এ দাবি পূরণ হওয়ায় টাইলসের প্রশস্ত ফুটপাতের সুফল এখন নাগরিকরা পাবেন। যদিও এর আগে বিভিন্ন সময় ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হতে দেখেছি। পরে একই চিত্র। তাই শঙ্কা থেকেই যায়। আশা করব, নতুন মেয়র এটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। হকারদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার দরকার। তাহলেও এর সুফল মিলবে।’

ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ ও হকারদের পুনর্বাসন সম্পর্কে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ছোট ব্যবসা করেও তাদের পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তারা চুরি-ডাকাতি করেন না। এজন্য তাদের সম্মানের চোখে দেখতে হবে। হকার শুধু হকার নন, আমাদের ভাই আমাদের পরিজন। তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’ ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতেই পুনর্বাসন কার্যক্রম আগে করা হয়েছে বলে তিনি জানান।