তীব্র গরমের কারণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় শিশু ডায়রিয়া রোগী দ্রুত বাড়ছে। গত ৫০ দিনে জেলার তিনটি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
বুধবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ ময়না খাতুন তার ১১ মাস বয়সী শিশুকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি জানান, শুধু স্যালাইন হাসপাতাল থেকে পাওয়া গেলেও অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের গৃহবধূ পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সী শিশু মোছাব্বির হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, ওয়ার্ডের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। স্যালাইন ছাড়া হাসপাতাল থেকে তেমন কিছু পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়ায় ডায়রিয়া, জ্বর ও বমির সমস্যা বাড়ছে। তারা শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পচা ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলার কথাও বলা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ দিনে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার জন, সদর হাসপাতালে ৫৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৪১ জন ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগেও বিপুল সংখ্যক শিশু ডায়রিয়া নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক মো. সামছুর রহমান বলেন, দেশে সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল থেকে গরম বাড়ে। এ সময়ে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে ডায়রিয়া ছাড়াও জ্বর ও বমি হয়। তিনি শিশুদের নিয়মিত মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং খাবার স্যালাইন দেয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পচা ও বাসি খাবার না খাওয়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আব্দুর রহমান বলেন, শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর বিষয়ে সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।









