চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রফতানি থেকে সরকার ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এরমধ্যে পণ্য রফতানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, আর সেবা রফতানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। আজ রোববার চলতি অর্থ বছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৬ হাজার ৩৫০ কোটি) ডলারের পণ্য ও সেবা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাতের জন্য ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বছর শেষে প্রকৃত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

এ সময় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি আয় আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর সেবা খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় এসেছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, সেবা খাতের রফতানি আয়ের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। এতে আরো দুই থেকে তিন মাস লাগবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দুটি অর্থবছরে রফতানি আয়ে এক ধরনের মন্দা অবস্থা ছিল। দুটি যুদ্ধ চলছে, উন্নত দেশে ভোগের পরিমাণ কমেছে এবং প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। এর মধ্যেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যে কারণে ইমিডিয়েট কিছু ফলাফল তুলে আনা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সাউথ কোরিয়াসহ কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে এফটিএ হবে। প্রধান রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাও শুরু হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ, ব্যবসা সহজ করা এবং রফতানি গন্তব্যের দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নামের পরিবর্তন হলেও হারের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রফতানি বহুমুখীকরণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পোশাক শিল্প থেকে রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশ আসে। কোনো দেশের জন্যই এটি স্বস্তিকর বা সুখকর নয়। এজন্য সম্ভাবনাময় অন্য খাতে রফতানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো আপনারা শিগগিরই দেখতে পারবেন। আমরা চাই, তৈরি পোশাক খাত থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হোক। পাশাপাশি অন্য খাতগুলো থেকেও যাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় আসে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। দেশের মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেটি আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। আর ৯০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এ দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব না। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে মন্ত্রণালয় আরো দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য বলেন, এটা সত্য যে, জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের শিল্প-কারখানাগুলোর ইন্সটল ক্যাপাসিটির ৩০ শতাংশই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে রাতারাতি এর কোনো সমাধান নেই। সরকার এ সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

অপর এক প্রশ্নে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত বছর বড় অনিশ্চয়তা ছিল। ব্যবসার প্রসারের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। ব্যবসায়ীদের কাছে পলিসি প্রেডেক্টিবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত সরকার আসার পর ব্যবসায়ীরা সেই প্রেডিকশন করতে পারছেন। অন্যদিকে এলডিসি গ্রাজুয়েশন হচ্ছে, এটি নিশ্চিত হয়েছে। এ থেকে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন, আগামী তিন বছর বাংলাদেশের পণ্যের মার্কেট এক্সেসিবিলিটি কি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন রফতানি গন্তব্য দেশের সঙ্গে একটি আলোচনা চলছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রফতানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। আগামী অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেটি কার্যকর হবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং প্রধান প্রধান রফতানি খাতের সংগঠনের নেতা ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।