ঢাকায় কাজ শেষে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে ডাকাতের কবলে পড়েছে বগুড়া পুলিশের একটি টিম। এ সময় ডাকাতরা পুলিশের গাড়ি থামিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যায়। আজ বুধবার ভোর রাতে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোনাতলা থানা পুলিশ জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী অপহৃত হয়। ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও অপহৃত পরিবার ওই ছাত্রীর সন্ধান করছিলেন। গত সোমবার ছাত্রীর পরিবার জানতে পারে মেয়েটি ঢাকায় অবস্থান করছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সোনাতলা থানা পুলিশ ঢাকায় ছাত্রীকে উদ্ধারে সোনাতলা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক ও কনস্টেবল আবুল কালাম এ অভিযানে যান। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রীর বাবা আব্দুর রশিদ ও চাচা শহীদুল ইসলাম ছিলেন।
ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রাতেই তারা সোনাতলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর সড়কে পেছন থেকে তাদের মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এসময় মাইক্রোবাসের গ্লাস ভেঙে পাথরটি ওই ছাত্রীর চাচা শহীদুলের মাথায় লাগে। তার চিৎকারে চালক গাড়ি থামালে ৭ থেকে ৮ জনের একদল ডাকাত তাদের ঘিরে ধরে। এসময় গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় দিলেও ডাকাতদল তা বিশ্বাস করেনি। তারা যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মালামাল লুট করতে গেলে কনস্টেবল কালাম তাদের বাধা দেন। এসময় তার মাথায় ছুরিকাঘাত করে ডাকাতরা। লুট করে তারা চলে গেলে আহত কনস্টেবল ও ওই ছাত্রীর চাচাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে থানায় ফেরেন তারা। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ সদস্যের একটি ওয়াকিটকি খোয়া গিয়েছে। তবে ঘটনাটি অস্বীকার করেছে সোনাতলা থানা পুলিশ।
সোনাতলা থানার ওসি সৈকত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করার পুলিশ সদস্যরা মাইক্রোবাস যোগ ঢাকায় যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তারা ডাকাতের কবলে পড়ে। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।










