চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী ও তাদের স্বজনদের অধিকাংশই জানেন না কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে বা আদৌ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে কিনা। এমন ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্লাটফর্ম ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যাচ্ছে, প্লাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে, কোন চিকিৎসা নথিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে একটি সহজ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’।
অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আইনি দৃষ্টিকোণ ও বাস্তবতার আলোকে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য দেন আলতাফ পারভেজ। নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আলতাফ পারভেজের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক ভরসার চরম অভাব রয়েছে। ফলে উন্নত সেবা পেতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়ে। তবে বেশির ভাগ মানুষকেই বাধ্য হয়ে এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার মধ্যেই বাস করতে হচ্ছে।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কার্যকর আইনি অবকাঠামো নেই, যাতে এসব অবহেলার বিচার দ্রুততার সঙ্গে করা যায়। তাই ডাক্তার ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে ল’ কমিশন গঠন করা উচিত, যেন সমস্যার সমাধানের যাত্রা একত্রে শুরু হয়। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোয় রিসোর্সের ঘাটতি আছে কিনা বা তারা লাইসেন্সের শর্ত যথাযথভাবে পালন করছে কিনা, সে দিকেও সরকারের নজর দিতে হবে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন পরামর্শ দেন, আর্থ-সামাজিক অবস্থানের কারণে যেসব ভুক্তভোগী পিছিয়ে থাকেন, তারাও যেন এই আন্দোলনের অংশীদার হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমকেও যথাযথ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্লাটফর্মটির লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়। প্রতিটি অভিযোগ যেন ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ পান এবং একটি ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজে লাগে—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই দিককেই গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছে উদ্যোগটি।
আয়োজকরা জানান, অভিযোগ মানেই চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগ শোনা, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্লাটফর্মটি ব্যক্তি, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয়; বরং অবহেলা, অস্পষ্টতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিরুদ্ধে।










