সাতক্ষীরায় গবাদিপশুর মধ্যে বসন্তের মতো এক ধরনের চর্মরোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯০০ গরু। গত এক মাসে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলায় ৩৫টি গরুর মৃত্যু হয়েছে এ রোগে। বেশ কয়েকটি ছাগলেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, স্থানীয়রা এটিকে বসন্ত বললেও এ রোগের নাম লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতাই পাচ্ছেন না তারা। ঠিকমতো সরকারি ভ্যাকসিন বা সঠিক পরামর্শ পাওয়া গেলে পশুগুলো মারা যেত না বলে তাদের দাবি।
সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের কৃষক আল মামুন জানান, তার দুটি বড় গাভী বসন্ত রোগে (এলএসডি) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই গ্রামের বাবলু রহমানের দুটি, হাফিজুর রহমানের একটি, আরশাফুল ইসলামের একটি, পীযূষ কুমারের একটি, ওমর খাত্তাবের দুটি, আফসার আলীর একটি, রবীন্দ্রনাথের একটি, রাশেদ মেননের একটিসহ অন্তত ১৫-১৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে এ রোগে। নিজ উদ্যোগে স্থানীয় পশুচিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার পরও গরু সুস্থ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে তাদের।
কৃষক বাবলু রহমান ও আফসার আলী জানান, বসন্ত রোগে ছনকা গ্রামে এতগুলো গবাদিপশু মারা গেল অথচ উপজেলার পর্যায়ের কোনো প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সহযোগিতা তারা পাননি। সময়মতো ভ্যাকসিন বা অন্যান্য সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এতগুলো গরুর মৃত্যু হতো না।
এদিকে কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে তার উপজেলায় ১৫টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই বাচুর। তবে বিভিন্ন প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থা নেয়ায় ভাইরাসজনিত রোগটি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আব্দুর রউফ অবশ্য গত এক মাসে ৩০ থেকে ৩৫টি গরু মারা যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বণিক বার্তাকে জানান, উপজেলা পর্যায়ে সঠিক তথ্য ঠিকমতো পাওয়া যায় না। অনেক সময় ওই পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভয়ে সঠিক তথ্য জেলা অফিসে পাঠান না। তার পরও জেলায় ৮০০-৯০০টি গবাদিপশু গত এক মাসে লাম্পি ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাই রোগটি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি খামারি বা গৃহপালিত পশু পালনকারীদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, তারা যেন গোয়াঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং রাতে মশারির ব্যবস্থা করেন।










