পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আমাদের কাজ করতে দিন, আমাদের ওপর আক্রমণ করবেন না। পুলিশ সমাজ ও দেশেরই লোক।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় শিল্প পুলিশ-২ ইউনিটের বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিবগাত উল্লাহ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল করিম খান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদার ও গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম।
আইজিপি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের কী অবস্থা ছিল, তা সবাই জানেন। আমাদের কিছু সদস্য, বিশেষ করে সিনিয়র কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনী কলঙ্কিত হয়েছে। কিন্তু কিছু কর্মকর্তার অন্ধ আনুগত্যের জন্য পুরো বাহিনী সমালোচিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কিছু সংখ্যক লোকের উচ্চাভিলাষ ও রাজনৈতিক আনুগত্যের জন্য এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে আমাদের সদস্যদের জীবন দিতে হয়েছে। যারা অন্যায়ভাবে আদেশ দিয়েছেন, তাদেরই এই দায়ভার নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, অন্যায়কারীরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন। আর যারা বাধ্য হয়ে কাজ করেছেন, তারা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হঠাৎ করে পরিবর্তন হবে না। আগে তারা আমাদের যেভাবে দেখেছে, এখন হয়তো আমাদের বন্ধু মনে করবে না। আমাদের প্রতিদিনই এর মূল্য দিতে হচ্ছে। এখনো পুলিশ মাঠে গিয়ে আইন প্রয়োগের সময় আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আসামি ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করতে গেলে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা হচ্ছে। আইন না মানার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ অনেকে মনে করছে, পুলিশ জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। কিন্তু একটা সভ্য দেশ কি পুলিশ ছাড়া চলতে পারে? পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশ কি পুলিশ ছাড়া চলে?
তিনি বলেন, দেশের মানুষকে বুঝতে হবে, অপরাধ দমন না হলে, শৃঙ্খলা না থাকলে কেউ নিরাপদ থাকবে না। ১৮ কোটি মানুষের দেশে কি কেউ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে? যখন অপরাধ ঘটে, তখন সবাই আতঙ্কে রাত জাগে, পাহারা দেয়। কিন্তু এটা তো পুলিশের কাজ। আমাদের যদি দায়িত্ব পালন করতে দেয়া না হয়, তাহলে পুরো সমাজই সমস্যায় পড়বে। তাই পুলিশকে কাজ করতে দেয়া উচিত।










