বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) যশোর অঞ্চলের গ্রাহক আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। মোবাইল প্রযুক্তির যুগে ক্রমেই গ্রাহক কমছে। পাঁচ বছরে ৭১৭ জন গ্রাহক কমেছে। শুধু ২০২১ সালে গ্রাহক কমেছে ৪৯০ জন। ২০১৭ সালে তাদের গ্রাহক ছিল ৮ হাজার ৭০৭ জন। সর্বশেষ ২০২১ সালে তা কমে এসে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯৯০ জনে। এর মধ্যে যশোর জেলায় সর্বাধিক ৩ হাজার ৩৪৭ জন গ্রাহক রয়েছে। যশোরসহ নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা নিয়ে যশোর বিটিসিএল অফিসের কার্যক্রম বিস্তৃত।

কর্মকর্তারা বলছেন, সংযোগ ফি বাড়ানো, লোকবল সংকট, করোনার হানা ও অপ্রতুল সেবার কারণে ক্রমেই গ্রাহক কমছে। এছাড়া ১৯৯২ সাল থেকে বিটিটিবির নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে ২০০৮ সালে বিটিসিএল কোম্পানিতে রূপান্তর হলেও এর সুযোগ-সুবিধা সেই সরকারি পর্যায়ের থেকে গেছে। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। এটাও গ্রাহক কমার অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে ঘোষণা ছাড়াই টেলিফোন নম্বরের পরিবর্তন। হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় গ্রাহকরা নিজেদের ফোন নম্বরই বলতে পারছে না। আবার আগে ১৭তে কল করে যেকোনো টেলিফোন নম্বর পাওয়া যেত বিটিসিএলের সেবা শাখা থেকে। সেই নম্বরও পরিবর্তন হয়েছে।

শহরের বেজপাড়া মেইন রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি গত বছর লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। টেলিফোনের লাইনে কোনো সমস্যা হলে অফিসে খবর দিয়েও তা সমাধান হয় না। ধরনা দিয়ে সংযোগ ঠিক করতে হয়। আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও ভুতুড়ে বিল চলে আসে। সেই সঙ্গে মোবাইলের এই যুগে আমাদের টেলিফোন ব্যবহার না করলেও ১২০ টাকা প্রতি মাসে দিতে হচ্ছে। যে কারণে আমরা টেলিফোনের সংযোগ রাখতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে টেলিফোন নম্বর পরিবর্তন।      যশোর বিটিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ মাসুদুর রহমান জানান, বেশির ভাগ বকেয়ার দায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আমাদের গ্রাহক কমে গেছে। তাছাড়া অনেক গ্রাহক কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণেও গ্রাহক কমেছে।

বিটিসিএলের যশোর অফিস সূত্র জানায়, তাদের লোকবল চাহিদার তুলনায় অর্ধেক রয়েছে। বিশেষ করে লাইনম্যান কম থাকায় তারা গ্রাহকদের সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছেন না। এখানে মোট জনবলের পদ রয়েছে ২৮২টি। কিন্তু বিপরীতে জনবল রয়েছে ১২০ জন। ঘাটতি রয়েছে ১৬২ জনের। এর মধ্যে লাইনম্যান ৫৭ জন থাকার নিয়ম থাকলেও কাজ করছেন মাত্র ১৫ জন।

যশোর বিটিসিএলের ব্যবস্থাপক মাহাদী হাসান জানান, নম্বর পরিবর্তন আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে এখন আমরা যাদের সংযোগ দিচ্ছি তাদের অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট নিতে হবে বাধ্যতামূলক। এটি নিরাপদ মাধ্যম। প্রতি মিনিট কলরেট নেয়া হচ্ছে ভ্যাট বাদে ৫২ পয়সা।