প্রতি মাসেই রফতানির তথ্য প্রকাশ করে থাকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তবে রফতানি পরিসংখ্যানে তথ্যগত গরমিল সংশোধনের জন্য আগামী তিনমাস রফতানির তথ্য প্রকাশ করবে না ইপিবি। এ সময়ের মধ্যে রফতানির তথ্যে গরমিল হওয়ার কারণ খুঁজে বের করে সংশোধন করার পর পুরনায় মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। সোমবার (১৫ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রফতানি তথ্যের গরমিল সংশোধনের উদ্দেশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবির রফতানির পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গরমিলের অন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ও ইপিবি আগামী তিন মাসের মধ্যে এ গরমিলের মূল কারণ খুঁজে বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কারণে এ সময়ে রফতানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে না ইপিবি। গরমিলের কারণ উদঘাটনের পর সেটি সংশোধন করে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দেশে রফতানি আয় নিয়ে নিয়মিতভাবে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। গত পাঁচ অর্থবছরে এ দুই সংস্থার রফতানি আয় পরিসংখ্যানের পার্থক্য ক্রমেই স্ফীত হতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলার। আর ইপিবির পরিসংখ্যানে তা দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে রফতানি আয়ের পার্থক্য ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার বা ২৯ শতাংশ।

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ দুই সংস্থার রফতানি পরিসংখ্যানে ১০ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য ছিল। এর আগের অর্থবছরে এ দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে ফারাক ছিল ১ হাজার ১৯৯ কোটি ডলার বা ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া পরিসংখ্যানের ব্যবধান ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৮৪৮ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৭৯ কোটি ডলার বা ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৩৭০ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ।