সারা দেশে পাঁচ শতাধিক সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিএনজি চালিত যানবাহনের চালকদের। কোথাও কোথাও একটি গাড়িকে গ্যাস নিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
স্টেশন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাপ থাকে প্রায় ২০০ পিএসআই। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১১০ থেকে ১১৫ পিএসআইয়ে। কখনো চাপ ১০০ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যাচ্ছে। তখন স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাপ কিছুটা বাড়লে আবার গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হচ্ছে। চাপ না থাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।
ঢাকা শহরে প্রায় ১০০টির বেশি সিএনজি স্টেশন রয়েছে। রাজধানীর প্রায় সব স্টেশনেই একই চিত্র। আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, মহাখালী ও আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকার স্টেশনগুলোতে সরজমিনে দেখা যায়, গ্যাস নিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। চাপ কম থাকায় ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আব্দুল্লাহপুরে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আগে গাড়িতে ৭০ টাকার গ্যাস ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এখন ৫৩ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছি। তিনি বলেন, ‘এভাবে সারা দিন গ্যাসের সিরিয়ালে থাকতে হলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। গাড়ি চালাতে না পারলে আয় বন্ধ হয়ে যায়।’ দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ চান তিনি।
মহাখালীর একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনের বড় একটি সময় গ্যাসের জন্য সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চাপ কম থাকায় চাহিদামতো গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আয়-রোজগার কমে গেছে। তার প্রশ্ন, ‘পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে গেছে, এ সমস্যার সমাধান কবে হবে জানি না।’
গ্যাস সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট আরো বেড়েছে। টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএনজি চালক, স্টেশন মালিক ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। এলএনজি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, ‘গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোর ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। অনেক সময় গ্যাসের চাপ ১০০ পিএসআইয়ের নিচে নামলে স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যাবসায়ীরা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে সিএনজি স্টেশন পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন। সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে খেলাপির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’










