করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে দিনাজপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ গণপরিবহন চলাচল। তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে ধানকাটা শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই সুযোগে শ্রমিক সেজে হিলিতে পাঁচটি মিনিবাস ও তিনটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে দেড়শতাধিক গার্মেন্ট কর্মীকে আটক করেছে আনসার ভিডিপি ও উপজেলা প্রশাসন। 

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১১টায় হিলির রাজধানী মোড় এলাকায় অবস্থিত আনসার বাহিনীর চেকপোস্টে ঢাকায় যাওয়ার পথে একটি বাসসহ ঢাকার গার্মেন্ট কর্মীদের আটক করে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। একইভাবে সর্বমোট ৫টি বাস ও ৩টি মাইক্রোবাস আটক করে আনসার সদস্য ও প্রশাসন। পরে পোশাককর্মীদের নিজ নিজ বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। 

এদিকে আজ সোমবার বিকালে অনুমোদন ছাড়া গাড়ি চালানোর দায়ে বাস ও মাইক্রোবাসগুলোকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

হিলির রাজধানী মোড় চেকপোস্টে দায়িত্বরত ভিডিপি সদস্য মহাব্বত হোসেন বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১১টায় দিনাজপুরের আমবাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মিনিবাসকে চেকপোস্টে আটকানো হয়। গাড়িটির সামনে সাদা কাগজে ধানকাটা শ্রমিক লেখা স্টিকার লাগানো ছিল। এতেই সন্দেহ হয়। পরে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তারা সবাই ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্ট কারাখানায় কর্মরত কর্মী। তাদের আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে এমন আরো কয়েকটি বাস ও মাইক্রোবাস আটক করা হয়।

একটি বাসের আরোহী এক পুরুষ ও নারী বলেন, ঢাকায় যাওয়ার জন্য অফিস থেকে আমাদের বারবার ফোন করা হচ্ছে। চাকরি বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে এভাবে যেতে হচ্ছে। অফিস থেকে তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপস্থিত না হলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে হাকিমপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ বলেন, যাত্রীদের সবার ভাড়ার টাকা ফেরত দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। 

হাকিমপুর ইউএনও আব্দুল রাফিউল আলম বলেন, বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের সহযোগিতায় ধানকাটা শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। সেই কৌশল অবলম্বন করে বাস ও মাইক্রোবাসে কৃষি শ্রমিকের স্টিকার লাগিয়ে পোশাককর্মী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে আমরা অভিযান চালিয়ে ৫টি মিনিবাস ও ৩টি মাইক্রোবাসকে আটক করি। এসব পরিবহনে দেড় শতাধিক পোশাককর্মী ছিলেন। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গণপরিবহন চালানোর দায়ে আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাস ও মাইক্রোবাসগুলোকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।