যশোরে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনহীন লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে সিভিল সার্জন গতকাল প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। এর আগে লাইফ কেয়ারে বিভিন্ন প্রতারণার চিত্র ধরা পড়ার কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রথম গেটের কাছেই অবস্থিত লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। চলতি বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন দেলোয়ার হোসেন।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে লাইফ কেয়ারের অনুমোদন দেয়া হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৮৩। বর্তমানে সেখানকার সাইনবোর্ড ও ব্যবস্থাপত্রে ডায়াগনস্টিকের আগে হসপিটাল লিখে প্রতারণা করছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাস্তবে হসপিটালের কোনো কার্যক্রম ছিল না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ভাগিয়ে চলছে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রতারণার ফাঁদ পেতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানা অজুহাতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী কাকলি খাতুন জানান, তার ছেলে সোলাইমান ওরফে সালেমন (৮) শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এছাড়া খাদ্যের প্রতি তেমন চাহিদা ছিল না। গত ১৬ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য ছেলেকে আনা হয় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক হুমায়ূন কবীরের কাছে। চিকিৎসক সালেমনকে এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। ওই দিন চিকিৎসকের সহকারী জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ক্যাশ কাউন্টার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা নেয়া হলেও কোনো রসিদ দেয়া হয়নি।
কাকলি খাতুন আরো জানান, গত ২০ ডিসেম্বর সোলাইমান ওরফে সালেমনকে ফের চিকিৎসকের কাছে আনা হয়। এদিন চিকিৎসক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য কোনো নির্দেশনা না দিলেও সহকারী জাহিদ ও ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বরতরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে ২৪০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর একটি আল্ট্রাসনো ও রক্তের পরীক্ষা করে ১২০০ টাকার রসিদ দেয়া হয় তাকে। কাকলি জানান, তাকে ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর নামে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার পরিচালনাকারী দেলোয়ার হোসেন জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। তবে শিগগিরই কাগজপত্র ঠিক করে নেব।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স নেই। পুরোপুরি অবৈধভাবে কার্যক্রম চলছে। লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও নবায়ন করা হয়নি। রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার কারণে গতকাল প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে তারা আর প্রতারণা করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।









