জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভাইস-মিনিস্টার ওয়াতানাবে ইয়োইচি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। বুধবার (৫ নভেম্বর) টোকিওতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে সিনিয়র সচিব বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া আরো জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দুটি সহযোগিতা স্মারক এবং দুই শতাধিকেরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশী দক্ষ কর্মীরা জাপানের শ্রমবাজারে অবদান রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে সিনিয়র সচিব বলেন, জাপানি বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এরই মধ্যে একটি বিশেষ ‘জাপান সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ সেলের মাধ্যমে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় জাপানি ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠকে সিনিয়র সচিব স্পেসিফায়েড স্কিল্ড ওয়ার্কার কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশে পাঁচটি ক্ষেত্রে দক্ষতা পরীক্ষা চালু করায় জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন, খাদ্য পরিবেশন শিল্প ও বন শিল্পসহ আরো কিছু নতুন খাতে পরীক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

ভাইস-মিনিস্টার ওয়াতানাবে ইয়োইচি এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এরই মধ্যে নতুন খাত অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।

সাক্ষাৎ শেষে জাপানের শীর্ষস্থানীয় জনশক্তি গ্রহণকারী সংস্থা আইএম জাপানের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কানামোরি হিতোশির সঙ্গে বৈঠক করেন সিনিয়র সচিব। বৈঠকে আইএম জাপানের প্রধান নির্বাহী জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেইনি ও এসএসডব্লিউ কর্মীর সংখ্যা অন্তত ৩০০ জনে উন্নীত করা হবে।