উত্তরবঙ্গের সব রেলপথ ডাবল লাইনে করার ঘোষণা দিয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘সরকার উত্তরবঙ্গের সব রেলপথকে ডাবল লাইনে করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে।’
দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশনে নির্মাণাধীন ইয়ার্ডের জায়গা ও রেলস্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে গতকাল তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আক্কাছ আলীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত তাদের আসামসহ সেভেন সিস্টারের সঙ্গে রেলপথ ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের হিলি ও লালমনিরহাট ব্যবহারে প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরো গতিশীল ও বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশই লাভবান হবে। আমরা এ বিষয়টি ভেবে দেখছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনে ইয়ার্ড ছিল। ফলে সেখানে পণ্য লোড-আনলোড করা হতো, কিন্তু ভারতের বর্ডারের কাছে হওয়ায় এতে তারা আপত্তি জানিয়েছে। এ কারণে সেটি সরিয়ে বিরামপুর রেলস্টেশনে ইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে এখন থেকে পরিবহনের মাধ্যমে ট্রেনের মাধ্যমে দেশের সব জায়গায় পণ্য পাঠানো যাবে।’
তিনি বলেন, ‘রেলের অনেক সংস্কারকাজ করা হবে। সব রেলস্টেশনকে আধুনিকায়ন ও নির্মাণ করা হবে নতুন রেলপথ। যাত্রী সেবার মান ও আসনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনের বগি আরো বাড়ানো হবে।’
হিলি রেলস্টেশন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ঘটনা ঘটার কারণে কিন্তু হিলি রেলস্টেশনের কিছু কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখব চলমান কাজ কেন বন্ধ হয়ে গেল। যদি ভারতের দিক থেকে আর কোনো আপত্তি না থাকে বা আমাদের দিক থেকে যেসব ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সে সমস্যাগুলো যদি আর না থাকে তাহলে চেষ্টা করব সেখানে স্টপেজ বাড়ানোর। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ট্রেনের নতুন কোনো স্টপেজ দেয়া হবে না।’
তবে পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশে স্টেশন সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি ভেবে দেখার আশ্বাস দেন।
২০২১ সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিরামপুর রেলস্টেশনে ইয়ার্ড ও ভবন নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে রেলস্টেশনটির ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।










