যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা করছে ইরান। যেকোনো মুহূর্তে হামলার শিকার হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা হালনাগাদ, নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং নতুন ড্রোন উৎপাদনের কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডা. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আত্মরক্ষার জন্য নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাস আয়োজিত সাংবাদিক ব্রিফিং ও প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।
বর্তমান সংকট ও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি বিশেষ বার্তা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা। তার ভাষায়, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা। আর আত্মরক্ষার সক্ষমতা থাকলেই কেবল সর্বোত্তম প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
নিজেদের সামরিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র হালনাগাদ করেছি, নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছি এবং নতুন ড্রোন তৈরি করেছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আক্রমণ করলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালাতে আমরা প্রস্তুত।
তবে ইরানের যুদ্ধের কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মোটেও যুদ্ধ চাই না। আমরা হাফেজ, সাদি, ফেরদৌসী ও রুমির দেশ। আমরা শিল্প ও সংগীতের মানুষ। আমাদের ইতিহাস মানবতায় পরিপূর্ণ।
নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, অন্যের ভূখণ্ড দখলের জন্য ইরান যুদ্ধ করছে না। বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পূর্বপুরুষদের বসবাস করা ভূখণ্ড রক্ষায় লড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, অতীতেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেছে এবং পরমাণু চুক্তিতেও পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়ও আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাতে পারে। আমাদের উপলব্ধি হলো, তারা যুক্তির ভাষা বোঝে না। তাদের কাছে আলোচনার অর্থ আত্মসমর্পণ।
তবু কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ করতে চায় না তেহরান। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও আলোচনায় বিশ্বাস করি। আমাদের ওপর হামলা চালানো পর্যন্ত আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব। আমেরিকা যুদ্ধে যা অর্জন করতে পারেনি, এখন আলোচনার মাধ্যমে তা অর্জন করতে চাইছে। আমরা নতুন যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার পূর্বাভাস অনুযায়ী যুদ্ধ আবারো শুরু হতে পারে এবং আলোচনার ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে।










