সুনীল অর্থনীতি বা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকার খাত বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল আছে। তারা চেষ্টা করছেন এ বিষয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের কাজের ভেতর সমন্বয় করে সবাইকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসার। পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি থ্রাস্ট সেক্টর চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন।’

গতকাল ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উদ্যোগে ‘প্ল্যানিং পারস্পেক্টিভ অন দ্য ইন্ডাস্ট্রিজ অন দি ইমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন দ্য ব্লু ইকোনমি সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুনীল অর্থনীতি খাতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জাভেদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার হলো বন্দরগুলোর সঙ্গে আমাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শুধু সড়ক যোগাযোগ নয়, রেল বা নদীপথকেও সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে যদি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বানাতে হয়, তাহলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলতে হবে। তার জন্য যে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, সেটি তৈরি করে দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই। এক্ষেত্রে সরকারি, উচ্চ শিক্ষা ও বেসরকারি খাতের মাঝে একটা সমন্বয় বা মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে। আইইউবি ও সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজকে ধন্যবাদ। কারণ তারা তাদের নিজেদের অংশটুকু করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।’

এ সময়ে আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেইন বলেন, ‘বাংলাদেশের কনটেইনার ওঠানামার প্রায় পুরোটাই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। ২১ হাজার টনের একটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার খালাস করতে সময় লাগে তিন-পাঁচদিন, যেখানে সিঙ্গাপুরের লাগে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা। এছাড়া আমাদের দেশে তৈরি পোশাক কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে লাগে ৯৫ দিন, যেখানে ভিয়েতনামের ৬১ দিন ও চীনের ৩২ দিন। এর কারণ দুর্নীতি।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.)। তিনি বঙ্গোপসাগর ও সুনীল অর্থনীতি এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ।