দেশের মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে হাঁটলেও নতুন করে স্বপ্ন জেগেছে ঠাকুরগাঁওয়ের মৃৎশিল্পীদের মাঝে। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের হাতে বানানো কারুশিল্প প্রদর্শন করা হবে বিশ্বমঞ্চে। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে এ প্রদর্শনী হবে।
এর আগে জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের ২৫ নারী। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধূপদানী, নকশি নাও, সানকি পুতুল, নকশি পাতিল, টেপা পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি তৈরি করা হয়। পরে নির্মিত কারুশিল্প পণ্যগুলোর তথ্য ও ছবিসহ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কারুশিল্প হিসেবে প্রদর্শনীতে মনোনয়ন পায়। অপেক্ষা শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির। যার মাধ্যমে নতুন মাইফলক ঘটবে মৃৎশিল্পে।
প্রশিক্ষণ নেয়া মৃৎশিল্পী সাবিত্রী পাল বলেন, ‘জন্মের পর থেকে পোড়া মাটি দিয়ে জিনিসপত্র তৈরির কাজ দেখে আসছি। নিজেরাও দীর্ঘ বছর এ কাজের সঙ্গে জড়িত।৷ তবে আলাদা করে নতুন কিছু তৈরি করা হয়নি। জয়িতা ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন করে আর্ট করেছি৷ এখন শুনছি এগুলো বাইরের দেশে পাঠানো হবে। এটি শুনে ভালো লাগল। আমরা অনুপ্রেরণা পাব।’
চিত্রশিল্পী ও প্রশিক্ষক আশরাফুল শাওন বলেন, ‘প্রশিক্ষণ ও কাজ শুরু করার সময় এতটা ভাববার সুযোগ হয়নি। তবে জয়িতা ফাউন্ডেশনের এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে একটা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের মৃৎশিল্পটিকে রাখার জন্য সবার এগিয়ে আসতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘যেকোনো ধরনের স্বীকৃতি পেলে কাজে গতি বাড়াবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শনী ও স্বীকৃতি পেলে মৃৎশিল্পে নতুন করে আশা জাগাবে।’










