ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বিগত ৫৬ বছরে ক্রীড়াঙ্গনকে যেভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলা উচিত ছিল, তা হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ক্রীড়াঙ্গনে রূপান্তর শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালুর পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন, বিজিএমইএ-বাফুফে অংশীদারত্ব উদ্যাপন ও মেগা অকশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। এ সময় ঢাকার উত্তরা তৃতীয় ফেজ এলাকায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) একটি মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাণিজ্য সংগঠন হলেও বিজিএমইএ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ঢাকার অভ্যন্তরে উপযুক্ত মাঠ পাওয়া গেলে বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেটির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
এর আগে বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান ঢাকার পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাঠগুলোর মধ্য থেকে একটি মাঠ বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেয়ার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। মাঠ পাওয়া গেলে করপোরেট স্পন্সরদের সহায়তায় বিজিএমইএ নিজ দায়িত্বে সেটির আধুনিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিজিএমইএ আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন করা হয়েছে। বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম যৌথভাবে ট্রফি উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম বলেন, বিজিএমইএ একটি সুসংগঠিত পরিবার। যৌথভাবে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরো উজ্জ্বল করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ যুক্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিকেএসপির কারিকুলামেও খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ ও বাফুফের সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিজিএমইএর পরিচালক ও স্পোর্টস কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ শাহ রাঈদ চৌধুরী। এ সময় নারী পোশাক কর্মীদের নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে তাদের কর্মদক্ষতার পাশাপাশি ফুটবল নৈপুণ্য তুলে ধরা হয়।
বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে বিজিএমইএর বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১৬টি দলের অংশগ্রহণে বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গতকাল মেগা অকশনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়।
টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহযোগিতা করছে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর টাইটেল স্পন্সর হুয়াওয়ে, পাওয়ারড বাই বুরি, কিট পার্টনার দৌড় এবং মিডিয়া পার্টনার টি স্পোর্টস। আয়োজকদের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টকে সফল ও প্রাণবন্ত করতে সহযোগিতার জন্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।










