সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে সারা দেশ। বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে শিক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে সাভারে এক ও নরসিংদীতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাদারীপুরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শকুনি লেকে ঝাঁপ দিয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নিখোঁজ হয়েছেন আরো একজন। রংপুরের তাজহাটে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের ছোড়া গুলিতে মানিক মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী নরসিংদী শহর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করতে জেলখানা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে তাহমিদ ভুইয়া (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে নরসিংদীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে জানান হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর ইমন (১৮) নামে আরো এক শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহমুদুল কবির বাশার।
নিহত তাহমিদ ভুইয়া সদর উপজেলার চিনিশপুর নন্দীপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ও এনকেএম হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পলাশ উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কাইয়ুম ওরফে কালাচান মিয়ার ছেলে ইমন চলতি বছর এসএসসি পাস করেছে।
এদিকে সাভারে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিক্ষোভরত এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গতকাল দুপুরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই শিক্ষার্থী এমআইএসটিতে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আনোয়ারুল কাদের নাজিম বণিক বার্তাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে একজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে তা সাভার থানা পুলিশ বলতে পারবে। প্রায় পাঁচজন আহত হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’
এছাড়া মাদারীপুরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দুই শিক্ষার্থী শকুনি লেকে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে বেরোবির আবু সাঈদসহ চলমান আন্দোলনে মৃত্যুর প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় মানিক মিয়া পাশের গ্যারেজে অটোরিকশা রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন মানিক মিয়া। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।










