যশোরের শিল্প ও বণিক শহর অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে ইউরিয়াবোঝাই একটি জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় পীরবাড়ী খেয়াঘাটের পাশে ভৈরব নদে এমভি শারিব বাঁধন নামের ইউরিয়াবোঝাই জাহাজটি ডুবে যায়। এ সময় জাহাজে বিসিআইসির (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) কাতার থেকে আমদানি করা ৬৪০ টন ইউরিয়া সার ছিল। ওই ইউরিয়া চট্টগ্রামভিত্তিক শিপিং কোম্পানি টোটাল শিপিং পরিবহন করছিল। জাহাজে থাকা ইউরিয়া সার গলে নদের পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ভৈরব নদের পানি দূষিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিপিং কোম্পানি সূত্র জানায়, কাতার থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সার মাদারভ্যাসেলে (বড় জাহাজে) করে চট্টগ্রামে আনা হয়। সেখান থেকে ৬৪০ টন (১২ হাজার ৮০০ বস্তা) ইউরিয়া ছোট জাহাজ এমভি শারিব বাঁধনে ভর্তি করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা হয়ে ২৫ জানুয়ারি যশোরের নওয়াপাড়া পীরবাড়ী খেয়াঘাট এলাকায় ভৈরব নদের ঘাটে এসে নোঙর করে। জাহাজ থেকে ইউরিয়া ঘাটে নামানোর জন্য বুধবার দুপুরে জাহাজটি তীরের কাছাকাছি আনা হয়। গতকাল সকালে জাহাজ থেকে ইউরিয়া সার ঘাটে নামানোর কথা ছিল।

বন্দর সূত্র জানায়, বুধবার রাতে নদে ভাটা ছিল। নদে পানি কম থাকায় ইউরিয়ার চাপে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাজটির তলা ফেটে যায়। এরপর জাহাজে পানি উঠতে থাকে। রাত ২টার দিকে জাহাজটি নদের পানিতে ডুবে যায়। এতে জাহাজের সব ইউরিয়া সার গলে নদের পানিতে মিশে গেছে।

এমভি শারিব বাঁধনের মাস্টার শরীফ হোসেন বলেন, ভৈরব নদের ঘাটে জাহাজটি বাঁধা ছিল। জাহাজে ৬৪০ টন ইউরিয়া ছিল। বুধবার রাতে জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। এ সময় নদে পানি কম ছিল। রাত সাড়ে ১২টা থেকে জাহাজটি আস্তে আস্তে ডুবতে শুরু করে এবং রাত ২টার দিকে জোয়ারে পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

টোটাল শিপিং কোম্পানির খুলনা ইনচার্জ আবদুল মজিদ বলেন, জাহাজে কাতার থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সার ছিল। জাহাজটি ঘাটে বাঁধা ছিল। এ সার পানিতে মিশে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হবে। কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব না।