একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৮৩৯ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে। এ বিভাগে ১৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৩৫, বরিশালে ১১৭, চট্টগ্রামে ১০০, ময়মনসিংহে ৭৯, রাজশাহীতে ৭১, রংপুরে ২৩ ও সিলেটে তিনজন ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৮ হাজার ৯২৯ জনের মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার ৯০০ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন আছে।
এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। মোট রোগীর ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারী কিছুটা বেশি। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৮২ জনের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ও ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ।
বয়সভিত্তিক হিসাবে তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। ২১-২৫ বছর বয়সী ৪ হাজার ১২২ জন এবং ২৬-৩০ বছর বয়সী ৪ হাজার ৬৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ২১-৩০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ১৮৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। মাসের প্রথম ২৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন। এছাড়া বর্ষার শেষ ভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিল ৯ হাজার ২০৬ জন।
সিটি করপোরেশন এলাকার রোগীও বেশি। চলতি বছর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ হাজার ৯৭২ জন এবং এর বাইরে ৭ হাজার ৫৯১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্র, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও ফুলের টবে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।
গত বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। চলতি বছরের বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আগস্টে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।










