বাংলাদেশ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি নিশ্চিত না করলেও পুলিশ সদর দপ্তরের দুটি সূত্র সম্ভাবনাটি উড়িয়েও দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল জানিয়েছেন, বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার।

গতকাল বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বেনজীরের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশ হয়। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। তবে বেনজীরের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তিনি দুবাইয়ের কারাগার থেকে বের হয়েছেন এবং বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল দুটি সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দেয়া হয়ে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনা তারাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে আজ (রোববার) দুবাইয়ে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় যোগাযোগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের মুক্তি বা ছাড়া পাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীরকে দুবাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তবে বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে দুদকের কাছেও তথ্য নেই।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগ করেছে।

গতকাল বিকালে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন শুনলাম, এটা স্টেজে বসে। সঙ্গে সঙ্গে হোম সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে কথা বলেছেন। কয়েক দিন আগেই আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি, শুধু এই বিষয়টার জন্য। তাকে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেয়া হয়েছে বেইল ক্যানসিলেশনের জন্য সে পার্সিউ করবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে।

গতকাল রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউএই প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় হয়েছে। তারা (ইউএই) কিছু নির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিল, সেগুলোও যথাযথভাবে দেয়া হয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’