ঝিনাইদহে দিন দিন বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী স্বামীকে ও স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছেন। বিচ্ছেদে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছেন। এটি এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে, দীর্ঘদিনের সংসার ঠুনকো অজুহাতে ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো কোনো দম্পতির বিচ্ছেদের ঘটনায় নিকাহ রেজিস্টারের রেকর্ড ভারী হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান থেকে ঝিনাইদহ জেলায় তালাক ও বিচ্ছেদের এমন আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। ঝিনাইদহ জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির নেতার জানান, জেলায় তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের এ হার অনেক বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯-২১ পর্যন্ত এ তিন বছরে ঝিনাইদহে ৯ হাজার ৭৭৮টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি মাসে গড়ে ২৭১টি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বি (পুরুষ কর্তৃক) তালাকের সংখ্যা ছিল ২৭৮, সি (উভয় পক্ষ) তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৫৬ ও ডি (নারী কর্তৃক) তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০। ২০২০ সালে বি তালাকের সংখ্যা ছিল ২৩২, সি তালাকের সংখ্যা ছিল ১৩৫৫ ও ডি তালাকের সংখ্যা ছিল ১১৪৩। ২০২১ সালে পুরুষ তালাক দেয় ৩৮৪ নারীকে। অন্যদিকে নারী তালাক দেয় ১ হাজার ৮৫৪ পুুরুষকে।

জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান জানান, জেলায় তালাকের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ঝিনাইদহ পৌর কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর জানান, করোনাকালে ঝিনাইদহ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে বিয়ে হয় ৩৯১টি। আর তালাকের ঘটনা ঘটে ১৬৯টি। তথ্য মতে, পৌরসভার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে গত ছয় মাসে ১০০ বিয়ে হলেও এর অর্ধেক হয়েছে তালাক। এছাড়া জেলার ছয়টি পৌরসভা, মানবাধিকার সংগঠন, মহিলাবিষয়ক অফিস, মহিলা সংস্থা ও জেলা জজ আদালতের লিগ্যাল এইড অফিসে প্রতিদিন তালাকের আবেদন জমা পড়ছে।

ঝিনাইদহ পৌরসভা থেকে পাওয়া তালাক নোটিস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনগুলোয় তালাকের কারণ হিসেবে বেশির ভাগই ছিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়া।

ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় হাজতবাসের ভয়ে পুরুষরা আগে তালাক দেয় না। যেভাবেই হোক সংসার করে। কিন্তু নারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইন না থাকায় হরহামেশা তারা তালাক দিয়ে দীর্ঘদিনের সংসার তছনছ করছে।