মেঘনা ও ধনাগোদা নদী চাঁদপুরের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এ দুই জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতু নির্মাণের ফলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপন হবে।

৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় ব্যয়ে নির্মিত হবে সেতুটি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার সীমান্ত স্থানে মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হবে।

ঢাকা থেকে গৌরীপুর-মতলব উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলা সদরে বর্তমান দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। কিন্তু ঢাকা থেকে ভবেরচর হয়ে গজারিয়া উপজেলার সীমানার ওপর দিয়ে মতলব-গাজারিয়া সংযোগ সেতু হলে চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৬৮ কিলোমিটার হবে।

জানা যায়, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু নির্মাণের। সেতু নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল একটি ডিও লেটার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৬০০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সাল থেকেই পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের প্রচেষ্টায় সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দে মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তা অনুমোদন দেয়া হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সেতুটি নির্মাণ হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এছাড়া চাঁদপুরসহ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনীর মানুষ দ্রুত সময়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছতে পারবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব-উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ (জামালপুর) ও মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর এবং গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হবে। ঢাকা থেকে গৌরীপুর হয়ে মতলব ও চাঁদপুর জেলা সদরের বর্তমান দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে ভবেরচর হয়ে গজারিয়া উপজেলার সীমানার ওপর দিয়ে মতলব-গাজারিয়া সংযোগ সেতু হলে চাঁদপুর জেলা সদরের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৬৮ কিলোমিটার।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তারের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে।’