টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘাটাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একজন পোশাককর্মী। বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোড়ার দেউলী পশ্চিমপাড়া গ্রামে। এ নিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় দুই করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেন।
ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার জানান, এই পোশাক কর্মী গাজীপুরের একটি কারখানায় কাজ করতেন। বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। গাজীপুরে থাকা অবস্থায় জ্বর-সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হন। আইইডিসিআরে নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ আসার খবর জানতে পেরে তিনি গত বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজ বাড়ি ঘাটাইল উপজেলা রসুলপুর ইউনিয়নের গোড়ার দেউলি পশ্চিম পাড়ায় আসেন এবং সেলফোন বন্ধ করে রাখেন। নানা চেষ্টা করে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর বাড়ি থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
৮ এপ্রিল টাঙ্গাইলে দুইজন করোনা রোগী শনাক্তের কথা জানায় আইইডিসিআর। কিন্তু গত এর মধ্যে ৭ এপ্রিল মির্জাপুরে এক স্বাস্থ্যকর্মীর বাদে দ্বিতীয় আক্রান্তকে খুঁজে পাচ্ছিল না কর্তৃপক্ষ। জেলা থেকে পাঠানো নমুনারগুলোর সবকটি নেগেটিভ আসায় ধন্দে পড়ে যায় প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আইইডিসিআর থেকে সেই ব্যক্তির নাম, উপজেলা আর মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। এরপরই মোবাইল ট্র্যাকিং করে ওই পোশাকর্মীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এদিকে টাঙ্গাইলের বাসাইলে তাবলিগ ফেরত ৪৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে তাদের বাসাইল ডিগ্রি কলেজে স্থাপিত কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সের শতাধিক ব্যক্তি ৬টি গ্রুপে খাগড়াছড়ি, ভোলা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় তাবলিগ জামাতে যায়। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালে নুরুল ইসলাম, তালহা ও আব্দুল ওয়াজেদের নেতৃত্বে থাকা তিনটি গ্রুপের ৪৭ জন ফিরেন।
পরে তাদের বাসাইল ডিগ্রি কলেজে গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তারা বাসাইল পৌরসভা, কাউলজানী ও হাবলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর সপ্তাহ খানেক আগে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের আব্দুল গনি, কাশিল ইউনিয়নের আব্দুল বছির মিয়া ও ফুলকী ইউনিয়নের জয়নাল মিয়ার নেতৃত্বে আরও তিনটি গ্রুপের প্রায় ৬০ জন তাবলিগ থেকে ফিরে বাড়ি চলে যান। তারা বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান বলেন, তাবলিগ জামাতের তিনটি গ্রুপের ৪৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। জানতে পেরেছি কয়েকদিন আগে আরও তিনটি গ্রুপ তাবলিগ জামায়াত থেকে ফিরেছেন। তাদের হোম কোয়ারেন্টিনের রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৪৭ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা নিশ্চিত করলেও তাবলিগের আরো কোনো গ্রুপ এলাকায় এসেছে কিনা সেতথ্য জানেন না ইউএনও শামছুন নাহার স্বপ্না। তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হবে। কেউ হোম কোয়ারেন্টিন না মানলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।









