আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে দেশের পেট্রল ও অকটেন সরবরাহের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। তাই ‘অযৌক্তিকভাবে জ্বালানির ওপর কোটা আরোপ না করে’ বাজার স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নেতৃবৃন্দের মতে, সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রকৃত মজুদ ঘাটতির কারণে নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ কাঠামো ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আজ সকালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজসহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা তৈরি হয়। এতে বাজারে হঠাৎ চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সংকটের সূচনা গুজব থেকে হলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আরোপিত কোটা ব্যবস্থা ও সরবরাহ নীতিমালার কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিপিসি প্রতিটি পেট্রল পাম্পের ওপর কোটা আরোপ করে পূর্ববর্তী সময়ের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহের নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
তারা আরো বলেন, মার্চ-জুন সময়কালের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে সরবরাহ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, সাধারণত শীত মৌসুম শেষে জ্বালানির চাহিদা কমে আসে। এ সময়ের গড়কে ভিত্তি ধরে বর্তমান সরবরাহ নির্ধারণ করায় সংকট আরো প্রকট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অনেক পেট্রল পাম্প সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং মাসে গড়ে ২০-২২ দিন জ্বালানি উত্তোলন করে থাকে। কিন্তু বিপিসি মাসকে ৩০ দিনে ভাগ করে দৈনিক কোটা নির্ধারণ করায় বাস্তবে সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এতে পাম্প মালিক ও ডিলাররা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি তুলতে পারছেন না।
বক্তারা দাবি করেন, বর্তমানে অনেক পাম্পের জন্য বরাদ্দ এত কম যে ৫-৯ হাজার লিটার ধারণক্ষম ট্যাংকার পূর্ণ লোডে ব্যবহার করাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবহন ব্যয় ডিলারদের কমিশনের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিপণন কোম্পানিগুলোর পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সীমা আরোপ করা হয়েছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে নীতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে ডিপোভিত্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি শিথিল বা প্রত্যাহার করে সাপ্তাহিক কোটা চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপণন কোম্পানিগুলোকে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ সমন্বয়ের অধিক স্বাধীনতা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরো বলেন, দেশে পেট্রল ও অকটেনের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের মোট পেট্রল ও অকটেন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হয়। এছাড়া দেশের প্রাইভেট রিফাইনারিতেও পেট্রল ও অকটেন উৎপাদিত হচ্ছে, যার বেশিরভাগই বিপিসি ক্রয় করে থাকে।










