মানুষের খাদ্যাভ্যাস, চালের চাহিদা ও ভোগের ধরন সম্পর্কে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়ন করা জরুরি বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়ন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতপ চালের ব্যবহার ও চাহিদা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল রাজধানীর খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলরুমে এফপিএমইউ আয়োজিত ‘আ স্টাডি অন দ্য কনজাম্পশন অ্যান্ড ডিমান্ড ফর নন-অ্যারোমেটিক হোয়াইট রাইস (আতপ চাল) ইন সিলেকটেড এরিয়াস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
আফরোজা খানম বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে আতপ চালের ব্যবহার রয়েছে। তবে শুধু কয়েকটি অঞ্চলের নয়, সারা দেশে আতপ চালের ভোগ ও চাহিদার চিত্র জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু খাদ্যের মজুদ নিশ্চিত করা নয়; মানুষের প্রয়োজন, পছন্দ ও পুষ্টিগত চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে খাদ্য পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
আতপ ও সেদ্ধ চালের পুষ্টিগত পার্থক্য নিয়েও গবেষকদের কাছে জানতে চান মন্ত্রী। তার মতে, চাল অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা একাধিকবার সেদ্ধ করলে পুষ্টিমান কতটা পরিবর্তন হয়, তা জানাও জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য কোন প্রক্রিয়ায় পুষ্টি বেশি সংরক্ষিত থাকে, গবেষণায় সেটিও উঠে আসা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন এফপিএমইউর মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।
গবেষণার কনসেপ্ট নোট ও প্রাথমিক বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন এফপিএমইউর সহযোগী গবেষণা পরিচালক মো. মাহিনুর ইসলাম।
ওয়ার্কশপে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা ও সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচকরা আতপ চালের ভোগ, ভোক্তার পছন্দ, আঞ্চলিক চাহিদা, পুষ্টিমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণ নিয়ে মতামত দেন। তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য ব্যবস্থায় চালের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের চালের ভোগ ও চাহিদার সঠিক চিত্র জানা জরুরি। অঞ্চল ভেদে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও চালের পছন্দের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতি প্রণয়নে সহায়ক হতে পারে।’










