রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান। খবর বাসস।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষ সমান সুবিধা পায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে অর্থ, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে।’
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশের বিকাশমান অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
জ্বালানি সংকট সমাধানে শিল্প মালিকদের সোলারসহ বিকল্প ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহসভাপতি, মো. শামসুজ্জামান (সিআইপি), মো. মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আশিকুর রহমান ও ফকির কামরুজ্জামান নাহিদসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকেএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাম্প্রতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রফতানি সক্ষমতার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা রাষ্ট্রপতির কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জ্বালানি সমস্যা সমাধানে শিল্প মালিকদের সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন এবং সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।’
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রাষ্ট্রপতির কাছে তার সংগঠনের উপস্থাপিত পত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিক নির্দেশনা দিয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, তার দপ্তর থেকে প্রেরিত পত্রটি শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য অংশীজনের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি বিকেএমইএকেও এ বিষয়ে একটি পত্র প্রদানের পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষ সমান সুবিধা পায়। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে অর্থ, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। এ সময় তিনি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের অবদান রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান।










