নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। এ দায়িত্বে কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

ইসির ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার যতটুকু মনে পরে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য এক প্রার্থীর বিষয়ে বলেছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। এটা কী কথা! তার মানে, এটা স্পষ্ট ওই ব্যক্তি ঋণখেলাপি ছিলেন। তার প্রতি অনুকম্পা করে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বৈধ করে দিল। এরপরে তারা তাদের (প্রার্থীকে) অসিয়ত করলেন, তারা যেন টাকা দিয়ে দেন। এটা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (নির্বাচন কমিশন)। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমার মনে হয়, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করা দরকার, এ ধরনের আচরণ তারা ভবিষ্যতে করবে কি না? এ ধরনের আচরণ যদি তারা ভবিষ্যতে করে, তাহলে ভবিষ্যতে কিন্তু আমাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে।

তিনি আরো বলেন, ইসি যদি এখনই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে এবং অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে এবারের নির্বাচনও বিতর্কিত হতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণের প্রত্যাশিত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সুজনের সম্পাদক বলেন, গণতন্ত্র মানে সবার সমান সুযোগ, সবার প্রতি সহিষ্ণু আচরণ। আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন পক্ষ অন্য পক্ষকে সেই সুযোগটা দিতে চাচ্ছে না। অনেক জায়গায় লক্ষ্য করেছি, অমুক দল, অমুক আসলে আমি আসব না, অমুক প্রার্থী থাকলে আমি থাকব না। এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমরা মনে করেছিলাম, এর পরিবর্তন হবে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ মানসিকতা পরিহার করে।

এ সময় সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় দিলিপ কুমার সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অবাধ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিনি জনগণকে আহ্বান করেন, জনগণ যেন কোনও দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারী বিদ্বেষী ও নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, ঋণখেলাপী, বিলখেলাপী, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ভূমিদস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিক অর্থাৎ কোনো অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোটদানে বিরত থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।