রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে দেশের সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা নির্বাচনের ওপর জোর দিতে চাই।’ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কয়েকজন ব্যক্তি রাষ্ট্র সংস্কার করে দেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সংস্কার করতে হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা সবাই যোগ্য ব্যক্তি। এ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা সবাই মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। প্রধান উপদেষ্টা কী করতে চান, অতিদ্রুত জনগণের সামনে সেটা উপস্থাপন করবেন। আমরা আশা করি, একটা রোডম্যাপের মাধ্যমে অতিদ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সত্যিকার অর্থে নতুন সরকারের কোনো এজেন্ডাভিত্তিক আলোচনা হয়নি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এ সরকারকে জানতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের মতবিনিময় করতে হবে। প্রতিবিপ্লব যাতে না ঘটে সেদিকে দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের নায়ক শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন। তাদের যারা দোসর রয়েছেন তারাও কেউ পালিয়েছেন, কেউ লুকিয়ে রয়েছেন। যেসব ব্যক্তি হাসিনার পাশে থেকে তার দোসরের ভূমিকায় মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন, লুটপাট করেছেন, তাদের আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের আশপাশে দেখতে চাই না। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের দেখে আমরা উদ্বিগ্ন, চিন্তিত হই।’

নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘অতিদ্রুত জনগণের চাহিদাকে পূরণ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা করতে হবে। কীভাবে একটি নির্বাচন অতিদ্রুত করা যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে আমাদের সামনে নতুন এক ভবিষ্যৎ এসেছে। সব জঞ্জালকে তুলে উপড়ে ফেলে দেশকে সুন্দর করে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।’

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ ১০ জেলায় বন্যায় এরই মধ্যে কয়েকজন নিহত হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষের ঘর-বাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। আমরা তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’ এ সময় নেতাকর্মীদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননেতা কাজী জাফর আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।