দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অফিস না করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অফিস না করলেও নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমন অভিযোগ তোলেন। তাদের ভাষ্য, বোরহান উদ্দিনের অনুপস্থিতির কারণে উপজেলায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, বোরহান উদ্দিনের অনুপস্থিতির কারণে কাগজপত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বোর্ড থেকে যদি কোনো নির্দেশনা আসে তা ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের বিলের জন্য ফাইল পাঠাতে শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু ওই কর্মকর্তা না থাকায় এ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই অনিয়মিত। উনি হয়তো মাসে দু-তিনদিন অফিস করেন, বাকি সময় থাকেন না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে বারবার বিষয়টি আমরা উপস্থাপন করেছি। উনিও ক্ষমা চেয়ে পরে এমনটি আর হবে না বলেছেন। কিন্তু তার কথায়-কাজে মিল নেই। জেলা সমন্বয় কমিটির বৈঠকে আমরা বিষয়টি বেশ কয়েকবার উপস্থাপন করেছি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বারবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি লিখেছেন। জেলা প্রশাসকের রেজুলেশনে বিষয়টি উঠেছে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে না আসার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করছি।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, অফিস করিনি, তবে জরুরি মিটিং, অনলাইনে নিয়মিত সরকারি নির্দেশনা পালন করেছি। এখন থেকে অফিস করব। আমাকে যদি সরকার সুবিধাজনক স্থানে বদলি করে তাহলে আমার জন্য সুবিধা হবে।

দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।