ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সূর্যপাশা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা পারভীনের সেই ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলে এবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার অ্যান্টিজেন পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
১০ দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর রেহেনা পারভীনের দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। কষ্ট কমাতে ১৭ এপ্রিল সকালে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বাড়িতে আনেন ছেলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। সেটি দিয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। এরপর মাকে বরিশালের হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য যানের খোঁজে নামেন। কিন্তু পাচ্ছিলেন না। নিরুপায় হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে করে মাকে হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পিঠের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধেন অক্সিজেন সিলিন্ডারটি। এরপর মাকে পেছনে বসিয়ে তার মুখে পরান অক্সিজেন মাস্ক। এভাবে ২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ওইদিন বিকালে মাকে নিয়ে পৌঁছান বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা ভাইরাল হয়।
ছয়দিন এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার অক্সিজেন লেভেল উন্নতি হয় রেহেনা পারভীনের। এরপর অনেকটা সুস্থ অবস্থায় মোটরসাইকেলেই শুক্রবার দুপুরে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন জিয়াউল। শনিবার আবার মাকে নিয়ে যান নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে অ্যান্টিজেন টেস্ট করান জিয়াউল, তার মা রেহেনা পারভীন (৫০) ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাই রাকিব হাসান। মায়ের ও ছোট ভাইয়ের প্রতিবেদন আসে ‘নেগেটিভ’। কিন্তু জিয়াউল করোনা ‘পজিটিভ’। শনিবার বিকালে প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জিয়াউল বলেন, ‘আমি পজিটিভ। দোয়া করবেন, কোনো সমস্যা নেই। সুস্থই আছি। অক্সিজেন স্যাচুরেশনও ভালো। আসুক না, তাতে কী! আমার মা ও ছোট ভাই তো সুস্থ আছে।’
এমন ভালোবাসা ও কর্মনিষ্টার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন তিনি।
১৭-২২ এপ্রিল ছয়দিন ধরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন মায়ের সার্বক্ষণিক সেবাযত্ন করেন জিয়াউল। ঝুঁকি আছে জেনেও তাকে এ কাজে নিবৃত্ত করতে পারেননি চিকিৎসক, নার্স এমনকি স্বজনরা।









